আমাদের পদ্ধতি
হাসপাতাল নয়। ডে-কেয়ার নয়। কোচিং সেন্টারও নয়।
শিশুরা এখানে আসে নড়াচড়া করতে, খেলতে, নতুন কিছু চেষ্টা করতে এবং আত্মবিশ্বাস গড়তে। খেলার আড়ালে একটি পেশাদার বোর্ড শিশুর শারীরিক অবস্থা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, আচরণ, পুষ্টি ও বিকাশের প্রস্তুতি লক্ষ করে — কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চাপ ছাড়াই।
কীভাবে হয়
প্রতিটি শিশু যে ছয়টি ধাপ পার হয়
-
১
ইনটেক ও বেসলাইন
শিশুর প্রোফাইল: ঘরের রুটিন, খাবার, ঘুম, স্ক্রিন ব্যবহার এবং কে কীভাবে দেখাশোনা করেন।
-
২
খেলার মাঠে পর্যবেক্ষণ
সাজানো খেলার মধ্য দিয়ে পর্যবেক্ষণ — নড়াচড়া, ভারসাম্য, আচরণের কারণ, আত্মবিশ্বাস, কথা বলা ও সামাজিক সাড়া।
-
৩
বোর্ড রিভিউ
শিশু বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদ মিলে অগ্রাধিকার ঠিক করেন; প্রয়োজনে থেরাপিস্টের মতামত নেওয়া হয়।
-
৪
ব্যক্তিগত প্যারেন্টিং প্ল্যান
৩০ দিনের লিখিত পরিকল্পনা (দীর্ঘ প্রোগ্রামে ৯০ দিন), মাপা যায় এমন কাজসহ।
-
৫
বাস্তবায়ন
খেলার সেশন, কোচিং ও অভিভাবক গাইডেন্স। সুপারিশ করা সহায়তা প্রোগ্রামের ভেতরেই চলে, আলাদা বিক্রি হিসেবে নয়।
-
৬
রিপোর্ট ও পরবর্তী ধাপ
মাসিক স্কোরকার্ড, পরিকল্পনায় সংশোধন, প্রয়োজনে রেফারেলের ব্যবস্থা।
সোজা কথা
আমরা যা করি — আর যা করি না
আমরা যা করি
- শরীরের ভিত্তি গড়ি — শক্তি, ভারসাম্য, সমন্বয়, স্ট্যামিনা, ভঙ্গি, শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঝুঁকি বোঝার ক্ষমতা
- বৃদ্ধি ও বিকাশের ধাপ নিয়মিত মেপে রাখি — ০–৫ বছর, প্রয়োজনে আরও বেশি বয়স পর্যন্ত
- আচরণ ও আবেগ নিয়ে কাজ করি — জেদ, রাগ, ঘুমের রুটিন ভেঙে যাওয়া, অস্থিরতা
- স্ক্রিন-নির্ভরতা কমাই — কেন্দ্রে কোনো স্ক্রিন গেমিং নেই; বাড়ির জন্য ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা
- বিকাশজনিত সমস্যা আগেভাগে ধরি এবং কাঠামোবদ্ধ সহায়তা দিই
- অভিভাবকদের বাস্তব ঘরোয়া ব্যবস্থা তৈরি করে দিই — রুটিন, সীমা এবং ধারাবাহিকতা
আমরা যা করি না
- পড়ালেখা, হাতের লেখা বা পরীক্ষার প্রস্তুতি করাই না
- PlayFit জোনে কোনো ভিডিও গেম বা স্ক্রিনভিত্তিক খেলা নেই
- কোনো গ্যারান্টি দিই না, "সেরে যাবে" বলি না, রোগের নাম প্রচারে ব্যবহার করি না
- অভিভাবককে দোষারোপ করি না — আমরা রুটিন, ব্যবস্থা ও দক্ষতার ঘাটতি ঠিক করি
লেবেল প্রসঙ্গে
আমরা শিশুকে চেনাই তার কী প্রয়োজন তা দিয়ে
এখানে শিশুকে চেনানো হয় তার কী প্রয়োজন তা দিয়ে, কোনো রোগের নাম দিয়ে নয়। অন্য কোথাও কোনো রোগ শনাক্ত হয়ে থাকলে সেই তথ্য শিশুর গোপন ফাইলে থাকে এবং পরিকল্পনার কাজে লাগে — কিন্তু সেটি কেন্দ্রের ভেতরে শিশুর পরিচয় হয়ে ওঠে না। কোনো রোগ নির্ণয় শুধু যোগ্য পেশাজীবীই যথাযথ মূল্যায়নের পর করেন, খেলার মাঠে কখনো নয়।
একই কারণে আমরা কোনো রোগের নাম প্রচারে ব্যবহার করি না, কোনো "সেরে যাবে" প্রতিশ্রুতি দিই না, এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার নিশ্চয়তা দিই না। আমরা যা দিই তা হলো কাঠামো, সৎ পর্যবেক্ষণ, লিখিত পরিকল্পনা এবং মাপা যায় এমন রিপোর্ট।
পরিচালনা, নিরাপত্তা ও নীতি
যে নিয়মগুলো আমরা নিজেরা মানি
- প্রতিটি কার্যক্রম তত্ত্বাবধানে হয়। মূল্যায়ন এবং কেন্দ্রের বাইরে যেকোনো পর্যবেক্ষণের জন্য সম্মতি নেওয়া হয়।
- শিশুর তথ্য গোপনীয় এবং শুধু পরিকল্পনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- PlayFit কার্যক্রম ঝুঁকি অনুযায়ী বেছে নেওয়া হয়। জোর করে অংশগ্রহণ করানো হয় না, প্রয়োজনে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
- সিসিটিভি শুধু খেলা ও চলাচলের জায়গায়। টয়লেট, ন্যাপি বদলানোর জায়গা বা অভিভাবক কাউন্সেলিং রুমে কোনো ক্যামেরা নেই।
- সব কর্মী পুলিশ ভেরিফিকেশন, ফার্স্ট এইড ও শিশু সিপিআর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং শিশু নিরাপত্তা নীতিতে স্বাক্ষর করেন।
- থেরাপি শুধু যোগ্য পেশাজীবীরাই তাদের সীমার মধ্যে দেন; আমাদের সীমার বাইরের সেবা রেফার করা হয়।
- প্রচারে কোনো রোগের নাম ব্যবহার করা হয় না, এবং কোনো শিশুকে কোনো প্রকাশ্য উপকরণে বা খেলার মাঠে রোগ দিয়ে পরিচয় করানো হয় না।
- অবহেলা বা নির্যাতনের সন্দেহ হলে নিরাপত্তা প্রটোকল ও যথাযথ রেফারেল নির্দেশনা কার্যকর হয়।
পরবর্তী ধাপ
শুরু করুন ইনটেক ও বেসলাইন পর্যবেক্ষণ দিয়ে
এরপর বোর্ড উপযুক্ত প্রোগ্রাম সুপারিশ করে — আর দরকার না থাকলে সেটিও সোজাসুজি বলে দেয়।
